নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে দুটি চুন কারখানার পাঁচটি ভাট্টির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। অভিযানে প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট/ঘণ্টা অবৈধ গ্যাসের লোড বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকার আষাঢ়িয়ার চর ও ঝাউচরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুহা তাবিল।
তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ-সোনারগাঁওয়ের অধীন জোনাল বিক্রয় অফিস-সোনারগাঁও এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, আষাঢ়িয়ার চরে একটি চুন কারখানায় তিনটি ভাট্টি পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ভাট্টির বেজ তৈরি করা হচ্ছিল এবং দুটি চালু অবস্থায় ছিল। পরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয় এবং অবৈধ গ্যাস লাইনের উৎস পয়েন্টে কিলিং করা হয়।
অন্যদিকে ঝাউচরে মেঘনা আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের পাশে একটি চুন কারখানায় দুটি ভাট্টি পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি চালু ছিল। অভিযানকালে ভাট্টি ভেঙে দেওয়া হয় এবং ১৬ ইঞ্চি বৈধ বিতরণ লাইন থেকে নেওয়া দুই ইঞ্চি অবৈধ বিতরণ লাইনের উৎস পয়েন্টে কিলিং ও ক্যাপিং করা হয়।
অভিযানে প্রায় ২০ ফুট দুই ইঞ্চি এমএস পাইপ, প্রায় ১০ ফুট দেড় ইঞ্চি এমএস পাইপ এবং সাতটি ভাট্টির বার্নার জব্দ করা হয়। এছাড়া প্রায় ১৫০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ উৎসস্থলেই বিনষ্ট করা হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দুটি চুন কারখানার পাঁচটি ভাট্টির মোট গ্যাস লোড ছিল ঘণ্টায় ১০ হাজার ঘনফুট। এতে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার গ্যাস সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া রাইজার কিলিং টিমের মাধ্যমে অবৈধ ২৯টি আবাসিক রাইজারও কিল করা হয়। অভিযানে কোনো অর্থদণ্ড বা জরিমানা করা হয়নি এবং কোনো মামলা বা এফআইআর করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।