বিশেষ প্রতিনিধিঃ মোঃ শামীম হোসাইন হৃদয়
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ১১১ দিনে ৯৬৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। এ সময়ে হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর দিকনির্দেশনায় থানার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
বন্দর থানায় যোগদানের আগে ওসি জামাল উদ্দিন সোনারগাঁ থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বন্দর থানায় যোগদানের পর থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক সারা ফেলেছে তা জানিয়েছে থানা পুলিশ।
কোন অপরাধে কতজন গ্রেপ্তার?
বন্দর থানা পুলিশের দেওয়া গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ জুন থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে মোট ৯৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ৪৪ জন, মাদক ব্যবসায়ী ১১৩ জন, মাদক সেবনকারী ২৩২ জন, কিশোর গ্যাংয়ের ৩০ জন, চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ১২২ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২০৭ জন এবং নিয়মিত মামলার আসামি ১২৭ জন। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৫১ ধারা এবং পুলিশ আইনের ৩৪ ধারাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুলবুল হত্যা মামলায় শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মানসহ এজাহারনামীয় ১৫ জন আসামিকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ছাড়াও ২০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
এ ছাড়া দুটি ডাকাতি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। হানিট্র্যাপ মামলায় আটজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি, হত্যা ও ধর্ষণ মামলার একাধিক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত
বন্দর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
পুলিশের দাবি, এসব অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে থানা পুলিশ।