
নারায়ণগঞ্জ (বন্দর)
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাঙ্গাল বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি চুন কারখানার দুটি ভাট্টি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৫০০টি আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
জোনাল বিক্রয় অফিস-বন্দর কর্তৃক পরিচালিত এ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুহা তাবিল ও জোনাল বিক্রয় অফিস-বন্দর ম্যানেজার জাহিন আমির খান ও সহকারী প্রকৌশলী মোঃশাহ আলম রনি।
অভিযানে মোট তিনটি স্পটে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথমে জাঙ্গাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি দুই ভাট্টি বিশিষ্ট চুন কারখানায় অভিযান চালানো হয়। কারখানাটিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের আনুমানিক লোড ছিল ঘণ্টায় ৪ হাজার ঘনফুট। অভিযানকালে প্রায় ৫ ফুট ২ ইঞ্চি এমএস পাইপ, ২০০ ফুট রাবার পাইপসহ বিভিন্ন ভাল্ব ও সরঞ্জাম অপসারণ করা হয়।
কারখানার মালিকদের ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় এ ঘটনায় কোনো জরিমানা বা কারাদণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে এক্সকাভেটরের সাহায্যে চুনের ভাট্টিগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং টিনশেডও ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে প্রথম সোর্স পয়েন্টে গ্যাস সংযোগ কিল করা হয়।
দ্বিতীয় সোর্স পয়েন্টে উচ্চচাপের বিতরণ লাইনে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবৈধ সার্ভিস-টি লাইনের পরবর্তী অংশে এন্ড ক্যাপ দিয়ে ওয়েল্ড করা হয়েছে। উচ্চচাপের বিতরণ লাইনে থাকা অবৈধ দুটি সার্ভিস-টি দ্রুত অপসারণ ও কিলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযানের দ্বিতীয় স্পট ছিল পশ্চিম জাঙ্গাল, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আবাসিক এলাকা। সেখানে আনুমানিক ২০০টি ডাবল-বার্নার আবাসিক সংযোগ ছিল। অবৈধ ২ ইঞ্চি বিতরণ লাইনের সংযোগ উৎসে কিলিং করায় প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকার এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এছাড়া তৃতীয় স্পট পূর্ব জাঙ্গালের হালুয়াপাড়া বাজার সড়ক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে আনুমানিক ৩০০টি আবাসিক ডাবল-বার্নার সংযোগ ছিল। অবৈধ ২ ইঞ্চি বিতরণ লাইনের সংযোগ উৎসে কিলিং করায় প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকার এসব আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযানকালে প্রায় ৯০ ফুট ২ ইঞ্চি এমএস পাইপ, একটি ডাবল চুলা ও একটি সিঙ্গেল চুলা অপসারণ করা হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি স্পটে অভিযানে কোনো জরিমানা বা কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি এবং কোনো মামলা বা এফআইআরও করা হয়নি।
অভিযানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।