
সাংবাদিক-পুলিশ ভাই ভাই, মাদক ও অপরাধমুক্ত বন্দর গড়ার প্রত্যয়
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
অবশেষে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের সঙ্গে সাংবাদিক জিহাদ হোসেনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) রাত ৯টার দিকে বন্দর থানার ভেতরে তাঁদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে।
এ সময় ওসি মো. জামাল উদ্দিন সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক, সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিক-পুলিশ ভাই ভাই। আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে। একে অপরের সঙ্গে মান-অভিমান থাকলে দায়িত্ব পালনে অসুবিধা হবে, তথ্য আদান-প্রদানেও সমস্যা তৈরি হবে।”
ওসি জামাল উদ্দিন আরও বলেন, সাংবাদিকরা বিভিন্ন অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন এবং পুলিশও প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বন্দর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা থাকা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ওসি বলেন, বন্দর থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান কঠোর। এ কারণে কেউ কেউ ভুল তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারে। তবে বন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে মাদক, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “আসুন, আমাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না রেখে একসঙ্গে কাজ করি। আপনারা সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, আমরা সেই তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বন্দরকে অপরাধমুক্ত রাখতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাগত দায়িত্ববোধ এবং সহযোগিতা বজায় থাকলে বন্দর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিক-পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও ডাকাতিমুক্ত বন্দর গড়ে তোলাই এখন সবার প্রত্যাশা।